Hot!

বরেণ্য সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের জন্মদিন

এম.এন.সাকিন ভূঁইয়া: অভিভক্ত বাংলার বিশিষ্ট সাংবাদিক, রাজনীতিবিদ ও সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীন ১৮৯৭ সালের  আজকের দিনে (৩ নভেম্বর) ময়মনসিংহের ত্রিশালে জন্মগ্রহণ করেন।জন্মদিনে মহান এই ব্যক্তিকে জানাই বিনব্র শ্রদ্ধা ও ভালবাসা । 
বরেণ্য সাংবাদিক-সাহিত্যিক আবুল কালাম শামসুদ্দীনের জন্মদিন



তিনি ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে এন্ট্রান্স ও ঢাকা কলেজ থেকে আইএ পাস করেন । কলকাতা রিপন কলেজে বিএ পড়ার অবস্থায় পরীক্ষা বর্জন করে অসহযোগ আন্দোলনে যোগদেন ।

তিনি ১৯২৩ সালে ‘মাসিক মোহম্মদী’ পত্রিকায় সহযোগী সম্পাদক হিসেবে গৌরবময় কর্ম জীবন সূচনা করেন । তাঁর পর ‘সাপ্তাহিক মুসলিম জগত’ ও ইংরেজি ‘সাপ্তাহিক দ্য মুসলিম’ এর সাংবাদিকতা করেন । ১৯২৬ সালে মোহাম্মদ নাসিরউদ্দীন সম্পাদিত ‘সওগাত’ এ সাম্পাদনা বিভাগে যোগদেন১৯৩৬ সালে মাওলানা আকরাম খাঁ কর্তৃক সম্পাদিত ঐতিহ্যবাহী ‘দৈনিক  আজাদ’ পত্রিকায় যুক্ত হন । তিনি উক্ত পত্রিকায় সুদীর্ঘ ২২ বছর (১৯৪০-১৯৫২) পর্যন্ত সম্পাদনা করেন ।যা তাঁর জন্য অনন্য কৃ্র্তী ।

১৯৪০ সালে বাঙ্গালী মুসলিম সাহিত্যিক সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে রেনেসাঁ সোসাইটির সভাপতি পদে ছিলেন । তিনিই প্রথম কাজী নজরুল ইসলামকে ‘যুগ প্রবর্তক’ কবি বলে অভিহিত করেন ।

ত্রিশের দশকে তিনি মুসলিম লীগে যোগদেন এবং ৪৬ সালে আইন পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন । ৫২ ভাষা আন্দোলনে ছাত্রদের নির্যাতন ও হত্যার প্রতিবাদে উক্ত পদ থেকে পদত্যাগ করেন । ২৩শে ফেব্রয়ারি তিনিই প্রথম শহীদ মিনার উদ্বোধন করেন ৭৯ এর গণঅভুথানের প্রতিবাদ স্বরুপ তিনি পাকিস্তান সরকার প্রদত্ত ‘সিতারা-ই-খিদমত’ ও ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’ উপাধি দুটি বর্জন করেন ।

তিনি পাকিস্তান সরকার কর্তৃক রবীন্দ্রসঙ্গী প্রচার বন্ধের সমর্থন ও ৭১সালের যুদ্ধে অখণ্ড পাকিস্তান রক্ষার বিবৃতি প্রদান করেন ।

তাঁর উল্লেখযোগ্য সাহিত্য কর্ম হলো ‘পলাশী থেকে পাকিস্তান’(ইতিহাস), ‘অতীত দিনের স্মৃতি’(আত্নজীবনী ও স্মৃতিচারণ ) ‘দৃষ্টিকোণ’(প্রবন্ধ)ও ‘ইলিয়ড’(অনুবাদ) সহ প্রভৃতি ।

তিনি একুশে পদক ও বাংলা একাডেমী পুরস্কার লাভ করেন । এই কৃর্তীমান সাংবাদিক ১৯৭৮ সালের ৪ মার্চ ঢাকায়  ইন্তেকাল করেন । 
 বন্ধু গণ তোমার ফেসবুকে এখনি শেয়ার দাও আর কমেন্ট করতে ভুলনা।