Hot!

সুলতান গজনীর ঐতিহাসিক সোমনাথ বিজয় দিবস


এম.এন. সাকির: আজ বীরদীপ্ত রাজাধিরাজ সুলতাস মাহমুদ গজনীর কর্তৃক ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দির বিজয় দিবস ।১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে সোমনাথ মন্দির আক্রমণ করেন ।মন্দিরটি গুজরাটের চালুক্যে  অবস্থিত । তৎকালীন হিন্দুরা মনে করতেন সোমনাথ বিজয় সুলতান মাহমুদের গজনীর সাধ্যের বাইরে ।
সোমনাথ মন্দির


তাদের এই ধর্ম বিশ্বাসকে চূর্ণ-বিচূর্ণ করতে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ ১০২৬ খ্রিষ্টাব্দে অভিযান যাত্রা করেন সোমনাথের পানে ।এদিকে হিন্দু রাজবর্গ্য ও পুরুহিতদের তুফানি বাধার সত্ত্বেও  পাক কালামের ধ্বনি তুলে ভেঙ্গে ফেলেন মন্দিরের দ্বার ও মুর্তি । (এরই পরিপ্রেক্ষিতে ড. ঈশ্বরী প্রসাদ বলেন, ‘সোমনাথ বিজয় সুলতান মাহমুদের ললাটে নতুন বিজয়ের গৌরব সংযুক্ত করে’।) মন্দির বিজয় প্রাক-কালে দুই কোটিরও বেশি স্বর্ণমুদ্রা ও প্রচুর মণিমুক্তা নিয়ে বীরবেশে স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন ।
এদিকে পূর্বের ন্যায়  বর্তমানেও সুলতাস মাহমুদ গজনীর যুদ্ধ-অভিযান নিয়ে মিথ্যা ও ভ্রান্ত গপ্পো-কেচ্ছা চলমান রয়েছে ।
অন্যদিকে ঐতিহাসিক এলাফিনস্টোন বলেন,এটি কোথাও নিশ্চিত করে বলা হয়নি যে, যুদ্ধে অথবা কোনো দুরহ বলপূর্বক দখলের সময় ছাড়া তিনি কখনো কোনো হিন্দুকে হত্যা করেছেন । মন্দির ধ্বংস কিংবা পৌত্তলিকতার বিনাশ সম্পর্কে বলা যায়, মহমুদের এই কাজের পেছনে কোনো ধর্মীয় উদ্দেশ্য ছিল না । কেননা, তিনি যে মন্দিরগুলো ধ্বংস করেন, সেগুলো ছিল ধনসম্পদের আগার । এ ছাড় অন্য কোনো মন্দির তিনি ধ্বংস করেননি ।আরেক ঐতিহাসিক ঈশ্বরী টোপা বলেন, মাহমুদ ভারতের যেসব মন্দির আক্রমণ করেন, তা ছিল অতিরিক্ত ও অবর্ণনীয় সম্পদের রক্ষণাগার, এর মধ্যে কিছু মন্দির ছিল রাজনৈতিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থল । মূলত মন্দির ভাঙা হয় অভিযানের সময়, ধর্মীয় কারেণে নয়, শান্তির সময় তিনি একটি মন্দিরও ধ্বংস করেননি ।
সুতরাং এখানে পরিষ্কার বোঝা যায়, সুলতান মাহমুদের যুদ্ধ-অভিযান ছিল শুধুই পার্থিব কার্য,  মন্দির  বা পৌত্তলিকতার ধ্বংসাধন করে ইসলাম প্রচার-প্রসার ঘটানো তাঁর কোনো উদ্দেশ্যই ছিলনা ।
তাঁর রাজসভার কবি ও ঐতিহাসিকদের রচনা থেকে জানা যায় , তিনি ছিলেন বুদ্ধিমান, ধর্মভীরু, শিল্প ও সাহিত্য অনুরাগী ।হিন্দুদের স্বাধীনভাবে ধর্মপালনের অধিকার দান করেছিলেন ।শাসক হিসেবেও প্রজাদের প্রতি ছিলেন দয়ালু ও সুবিবেচক । প্রজাদের আনন্দ ও দুঃখে সমানভাবে অংশ্রগ্রহণ করতেন।