Hot!

আজ ঐতিহাসিক আশূরা দিবস



এম.এন. সাকিব ভূঁইয়া : আজ স্মৃতিবিজড়িত ১০ই মহাররম । পবিত্র আশূরা দিবস ।নবীজীর (সা:)প্রিয়তম দৌহিত্র হযরত হুসাইন (রা:) ৭২ জন সঙ্গী সহ ৬১ হিজরী সনের ১০ই মুহাররম ইরাকের কুফা নগরী থেকে ৬০ কিলোমিটার দূরে ফোরাত নদীর তীরে কারবালার ময়দানে ইয়াযীদের বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন। এ ছাড়াও আশূরা দিবসে আল্লাহ তা’আলা আসমান, জমিন ও আদি মানব হযরত আদম (আ:) কে সৃষ্টি করেছেন । এ দিবসে হযরত নূহ (আ:) এর কিস্তি জমিনে অবতরণ করে ।এদিনে হযরত ইবরাহীম (আ:) নমরূদের কবল থেকে মুক্তি পান এবং মূসা (আ:) ও বনী ইসরাঈল ফির‘আউনের কবল থেকে মুক্তি লাভ করেন । হযরত ইউনুস (আ:) মাছের পেটে ৪০ দিন থাকার পর এদিনেই মুক্তি পান । এ দিনেই হযরত আইয়ুব (আ:) রোগমুক্ত হন । এ দিনে হযরত ইউসুফ (আ:) কুপ থেকে উদ্ধার পান । এ দিনেই আল্লাহ তা‘আলা হযরত ঈসা (আ:) কে বেদ্বীনদের খপ্পর থেকে বাঁচিয়ে আসমানে তুলে নেন ।এমন শত সহস্র ঐতিহাসিক ও স্মরণীয় ঘটনার ধারক এ আশূরা ।
এ দিনের ফজীলত শুধু হুসাইন (রা.) এর হৃদয়  বিদারক ঘটনার কারণে নয়, বরং পৃথিবীর সৃষ্টি লগ্ন থেকেই ফজীলত বিদ্যমান ।ঐতিহাসিক মতে বর্ণিত আছে যে, রামাজান মাসের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে উম্মতে মুহাম্মদীর উপর আশূরার রোয়া  ফরজ ছিল, অতঃপর রামাজানের রোযা ফরজ হওয়ার পর আশূরার রোযার ফরজিয়াত রহিত হয়ে নফলে পরিণত হয় ।
 আশূরার রোয়া সম্পর্কে রাসুল (সা:) জানান দেন মদীনায় হিজরত এর সময় । সেখারকার ইহুদীগণ আশুরার দিনে রোযা পালন করে । তিনি তাদেরকে এই রোযার কারণ জিজ্ঞেস করলেন । প্রতি উত্তরে তারা বলল, এটা একটি মহান দিবস । এই দিনে আল্লাহ হযরত মুসা (আ) ও তাঁর সঙ্গীদেরকে ফিরআউন ও তার দলবলের হাত থেকে মুক্তি দেন এবং ফিরআউনকে তার দলবলসহ নীল নদের পানিতে ডুবিয়ে দেন । হযরত মুসা (আ:) মহান আল্লাহর দরবারে শোকরিয়া আদায় করার মানসে এই দিনে রোযা পালন করেন । আমরাও তার এই ঘটনার স্মারক হিসেবে এই দিনে রোযা পালন করে থাকি ।একথা শুনে প্রিয় নবী (সা:) বললেন, আমরা তোমাদের অপেক্ষা হযরত মুসা (আ:) এর অধিকতর ঘনিষ্ট এবং তাঁর আদর্শের প্রতি অনুরাগ তোমাদের চেয়ে আমা,রে বেশী । অতএব, হুযূর (সা:) এই দিনে রোযা রাখলেন এবং সাহাবায়ে কিরামগণকে রোযা রাখার হুকুম দিলেন । (বুখারী শরীফ, ১ম খন্ড ২৫৮ পৃষ্ঠা )
রোযা রাখার নিয়মাবলী সম্পর্কে রাসুল (সা) ইরশাদ করেন :১০ই মহররমের আগের দিন অথবা পরের দিন মিলিয়ে রোযা রাখ । এভাবে তোমরা ইয়াহুদীদের বিপরীত কর । কিননা, তারা শুধু ১০ই মুহাররম রোযা রাখে ।তিনি এর ফজীলত সম্পর্কে বলেন, রামাজান মাসের পর সর্বোত্তম রোযা হচ্ছে মুহাররমের (আশূরার) রোযা ।(মিশকাত, ১৬৮পৃষ্ঠা)
কিন্তু দুঃখের বিষয়,বর্তমানে হযরত ইমাম হাসান-হোসাইন রা. এর নামে যেভাবে বুক চাপড়ানো, রক্তাক্ত করা, তাজিয়া মিছিল করা, কৃত্রিম কবর বানিয়ে যিয়ারত করা কাল ব্যাজ ও কাল পোশাক পরিধান করা, মহররম মাসে সন্তানের জন্ম হওয়া ও বিবাহকে অশুভ মনে করা  ইত্যাদি ।অথচ এসব কাজ সবগুলোই ইসলামে হারাম ও নিষিদ্ধ ।